সংখ্যা পদ্ধতির গল্প

NEEL TEXT ICT NOTE 

✍️ পরিচয়

আমি মো. বেলাল হোসেন নীল,
সিনিয়র প্রভাষক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)
লক্ষ্মীপুর ভিক্টোরি কলেজ।
Founder of NEEL TEXT — যেখানে আমরা ICT শিখি গল্পের মত মজা করে। 

📖 সংখ্যা পদ্ধতির গল্প

সংখ্যা আবিষ্কারের গল্প

ভাবো প্রাচীন যুগে মানুষ বাজারে গেল, কিন্তু তখন তো টাকা-পয়সা নাই, হিসাবও নাই।
একজন বলল—“আমি তোমাকে ৫টা মাছ দিলাম, তুমি আমাকে ৫টা কলা দাও।”
তখন সে হাতের আঙুল দেখিয়ে গুনত।

এরপর কাঠি, ঝিনুক, পাথর, দেয়ালে দাগ—এসব দিয়ে হিসাব শুরু হলো।
খ্রিস্টপূর্ব ৩৪০০ সালে মিশরের হায়ারোগ্লিফিক্স সংখ্যা পদ্ধতি দিয়ে প্রথম লিখিত সংখ্যা শুরু হয়।
পরে এল মেয়ান, রোমান আর শেষে দশমিক পদ্ধতি
মানে, সংখ্যা পদ্ধতি হলো মানুষের গণনার ইতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো জাদু। 🪄


সংখ্যা বনাম অংক

ধরো তোমার ক্লাসে 243 জন ছাত্র আছে।
এখানে 243 হলো সংখ্যা।
এই সংখ্যাটা বানাতে যে ছোট ছোট প্রতীক দরকার— 2, 4, 3
এসবকেই বলে অংক (Digit)
👉 সব অংকই সংখ্যা, কিন্তু সব সংখ্যা অংক না।


সংখ্যা পদ্ধতি

সংখ্যাকে লিখা, প্রকাশ আর হিসাব করার কৌশলই হলো সংখ্যা পদ্ধতি
এতে থাকে—

  • প্রতীক (০,১,২…)

  • অপারেটর (+, -, ×…)

  • নিয়ম (যোগ, বিয়োগ…)


সংখ্যা পদ্ধতির দুই ধরণ

১) নন-পজিশনাল (অস্থানিক)

  • এখানে সংখ্যার মান তার অবস্থানের উপর নির্ভর করে না

  • যেমন হায়ারোগ্লিফিক্স, রোমান, ট্যালি

  • ধরা যাক তুমি রোমান সংখ্যা V = 5 লিখলে, V সবসময়ই 5, পাশে কে বসলো তার কোনো মানে নাই।

২) পজিশনাল (স্থানিক)

  • এখানে সংখ্যার মান নির্ভর করে অংকের অবস্থানের উপর

  • যেমন ডেসিমেল (126.34) → এখানে 2 মানে 20 না, বরং (10)^1 = 10

  • আর দশমিক বিন্দুকে বলে Radix Point


চার ধরনের পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি

১) বাইনারি (Binary)

  • চিহ্ন: 0, 1

  • বেজ: 2

  • উদাহরণ: (1010)₂

  • গল্প: কম্পিউটার হলো একদম “হ্যাঁ-না” ধাঁচের মানুষ। সে শুধু ON = 1 আর OFF = 0 বোঝে। তাই বাইনারিই তার ভাষা।

২) অক্টাল (Octal)

  • চিহ্ন: 0–7

  • বেজ: 8

  • উদাহরণ: (120)₈

  • গল্প: ৩ বিটের মাধ্যমেই একেকটা অক্টাল সংখ্যা বানানো যায়। এজন্য ডিজিটাল সিস্টেমে বাইনারি থেকে অক্টালে রূপান্তর করা সহজ।

৩) ডেসিমেল (Decimal)

  • চিহ্ন: 0–9

  • বেজ: 10

  • উদাহরণ: (120)₁₀

  • গল্প: আমরা মানুষ হাতের ১০ আঙুলে গুনতে পারি, তাই স্বাভাবিকভাবে ডেসিমেল আমাদের প্রিয় সংখ্যা পদ্ধতি।

৪) হেক্সাডেসিমেল (Hexadecimal)

  • চিহ্ন: 0–9 এবং A–F

  • বেজ: 16

  • উদাহরণ: (120A)₁₆

  • গল্প: প্রোগ্রামারদের প্রিয় কোড! কারণ ৪ বিটের মাধ্যমেই একেকটা হেক্স সংখ্যা বানানো যায়। রঙ, মেমোরি অ্যাড্রেস সবখানেই এর ব্যবহার।


 ২০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

১। নিচের কোনটি নন-পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি?
ক) বাইনারি খ) হায়ারোগ্লিফিক্স গ) ডেসিমেল ঘ) অক্টাল
✅ উত্তর: খ) হায়ারোগ্লিফিক্স

২। কম্পিউটার কোন সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করে?
ক) বাইনারি খ) অক্টাল গ) ডেসিমেল ঘ) হেক্সাডেসিমেল
✅ উত্তর: ক) বাইনারি

৩। হেক্সাডেসিমেলে কয়টি প্রতীক আছে?
ক) ৬ খ) ৮ গ) ১০ ঘ) ১৬
✅ উত্তর: ঘ) ১৬

৪। অক্টালের বেজ কত?
ক) ২ খ) ৮ গ) ১০ ঘ) ১৬
✅ উত্তর: খ) ৮

৫। (1010)₂ এর বেজ হলো—
ক) ২ খ) ৮ গ) ১০ ঘ) ১৬
✅ উত্তর: ক) ২

৬। বাইনারি সংখ্যার ক্ষুদ্রতম একক হলো—
ক) বিট খ) বাইট গ) কিলোবাইট ঘ) মেগাবাইট
✅ উত্তর: ক) বিট

৭। ১ বাইটে কয় বিট?
ক) ৪ খ) ৮ গ) ১৬ ঘ) ৩২
✅ উত্তর: খ) ৮

৮। অক্টালকে বলা হয়—
ক) ২ বিট কোড খ) ৩ বিট কোড গ) ৪ বিট কোড ঘ) ৮ বিট কোড
✅ উত্তর: খ) ৩ বিট কোড

৯। হেক্সাডেসিমেলকে বলা হয়—
ক) ২ বিট কোড খ) ৩ বিট কোড গ) ৪ বিট কোড ঘ) ৮ বিট কোড
✅ উত্তর: গ) ৪ বিট কোড

১০। 678 সংখ্যাটি কোন পদ্ধতির হতে পারে না?
ক) অক্টাল খ) ডেসিমেল গ) হেক্সাডেসিমেল ঘ) কোনোটিই নয়
✅ উত্তর: ক) অক্টাল

১১। 111 সংখ্যাটি হতে পারে—
ক) বাইনারি খ) ডেসিমেল গ) হেক্সাডেসিমেল ঘ) সবগুলো
✅ উত্তর: ঘ) সবগুলো

১২। “Radix Point” ব্যবহৃত হয়—
ক) অস্থানিক খ) স্থানিক সংখ্যা পদ্ধতিতে
✅ উত্তর: খ) স্থানিক

১৩। A68B কোন সংখ্যা পদ্ধতি?
ক) বাইনারি খ) অক্টাল গ) হেক্সাডেসিমেল ঘ) ডেসিমেল
✅ উত্তর: গ) হেক্সাডেসিমেল

১৪। কম্পিউটার বোঝে—
ক) এনালগ সিগন্যাল খ) ডিজিটাল সিগন্যাল
✅ উত্তর: খ) ডিজিটাল সিগন্যাল

১৫। বাইনারি সিস্টেম ব্যবহার হয় কারণ—
ক) হ্যাঁ/না খ) অন/অফ গ) High/Low ঘ) সবগুলো
✅ উত্তর: ঘ) সবগুলো

১৬। (298)₈ সঠিক কি?
✅ উত্তর: ❌ না, কারণ অক্টালে 8 লেখা যায় না।

১৭। (1110)₂ সংখ্যার শেষ অঙ্ক 0 হলো—
ক) MSB খ) LSB গ) BCD ঘ) BOS
✅ উত্তর: খ) LSB

১৮। (1209A)₁₆ কোন সংখ্যা পদ্ধতি?
✅ উত্তর: হেক্সাডেসিমেল

১৯। (310.76) কোন পদ্ধতির?
✅ উত্তর: ডেসিমেল

২০। “সকল অংকই সংখ্যা, কিন্তু সকল সংখ্যা অংক নয়”—এই উক্তি কার সাথে সম্পর্কিত?
✅ উত্তর: অংক ও সংখ্যা


📝 ৫টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন (উত্তরসহ)

১। সংখ্যা কী?
👉 গণনা, পরিমাণ ও পরিমাপ করার উপাদান।

২। অংক কী?
👉 সংখ্যার ক্ষুদ্রতম প্রতীক।

৩। Radix Point কী?
👉 পজিশনাল সংখ্যায় পূর্ণাংশ ও ভগ্নাংশ আলাদা করার বিন্দু।

৪। বেজ কী?
👉 কোনো সংখ্যা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত মোট মৌলিক চিহ্নের সংখ্যা।

৫। বাইনারি সংখ্যার বেজ কত?
👉 ২


📝 ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন (উত্তরসহ)

১। “সকল অংকই সংখ্যা কিন্তু সকল সংখ্যা অংক নয়”—ব্যাখ্যা কর।
👉 ২, ৪, ৩ হলো অংক, এগুলো সংখ্যা হিসেবেও ব্যবহার হয়। কিন্তু 243 হলো সংখ্যা, অংক না।

২। “ট্যালি একটি নন-পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি”—ব্যাখ্যা কর।
👉 ট্যালিতে অবস্থান নয়, কেবল দাগের সংখ্যাই মান নির্ধারণ করে।

৩। (11)₁₀ সংখ্যাটিকে পজিশনাল সংখ্যা বলা হয় কেন?
👉 এখানে প্রথম 1 এর মান 10 আর দ্বিতীয় 1 এর মান 1, মানে অবস্থানের উপর মান নির্ভর করছে।

৪। “অক্টাল তিন বিটের কোড”—ব্যাখ্যা কর।
👉 অক্টালে 0–7 পর্যন্ত সংখ্যা থাকে, যা ৩ বিট দিয়ে প্রকাশ করা যায়।

৫। “হেক্সাডেসিমেল চার বিটের কোড”—ব্যাখ্যা কর।
👉 হেক্সাডেসিমেলের প্রতিটি প্রতীক (0–F) ৪ বিটে প্রকাশ করা সম্ভব।

Facebook
Twitter
Email
Print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *